বাদুড়িয়া ও স্বরূপনগরে কি প্রভাব বিস্তার করছে আপ!






দ্য ওয়েভ ব্যুরো : শুরু হল সদস্য সংগ্রহ অভিযান। বাদুড়িয়া স্বরূপনগর সহ বসিরহাট লোকসভা এলাকার মানুষ ইতিমধ্যে দলে দলে আদমী পার্টিতে যোগদান দিচ্ছেন বলে সূত্র মারফত খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ১০ই মার্চ পাঞ্জাবে বিপুল জয় পাওয়ার সাথে সাথেই বাংলার আপ কর্মী সমর্থকরা রাস্তায় নেমে সেই জয় উদযাপন করে। যদিও তার দুদিন আগেই আম আদমী পার্টির পক্ষ থেকে এক লিখিত বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয় যে আগামী পঞ্চায়েত ভোটে অর্থাৎ ২০২৩শেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আপ। পাঞ্জাব জয়ের পরই সমস্ত ফ্রন্ট লাইন মিডিয়া হাউসগুলি পশ্চিমবঙ্গ আপ-এর প্রথম সারির নেতানেত্রীদের সামনে আনে। তাছাড়া আপ দলের মহিলা শক্তি শাখার পক্ষে কোলকাতার প্রেসক্লাবে একটি সাংবাদিক সম্মেলন হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার আম আদমী পার্টির ডিস্ট্রিক্ট ইনচার্জ তুলিকা অধিকারী, এবং দিতি দাস সহ বিশিষ্টরা।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতে চলেছে জোর কদমে পোস্টার ও ক্যানোপি ক্যাম্পেইন। প্রত্যেক জেলার জন্য একটি করে মোবাইল নম্বর দিয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় জোর প্রচার চালাচ্ছে আপের কর্মী সমর্থকেরা।  ঐ নম্বর গুলিতে মিস কল দিলেই আপের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে একটি লিঙ্ক পাঠানো হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। সেই লিঙ্কে ক্লিক করলেই একটি গুগল ফর্ম পাবেন যারা আপের সদস্য পদ পেতে যান।

ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা আপ জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে, গঠিত হয়েছে হোয়াটস্যাপ ও টেলিকলিং টিম, সোস্যাল মিডিয়া সেল অনেক আগে থেকেই আছে যা এখন অনেক বেশি জোরালো সব সওয়াল ছুড়ে দিচ্ছে নেটিজেনদের কাছে। পশ্চিমবঙ্গ আপের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ফলোয়ার সংখ্যা অল্পদিনেই ১৬৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইতিমধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার প্রত্যেকে বিধানসভার ইনচার্জ বেছে নেওয়া হয়েছে। আগামীতে কিভাবে আপ এগোতে চায় ও বর্তমান আপে জয়েন করার যে হিড়িক পড়েছে সারা বাংলা জুড়ে সেই মোমেন্টামকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় ইত্যাদি বিষয়ে বিধানসভার ইনচার্জদের নিয়ে বারাসাতে একটি আলোচনাসভা বসে।

বাংলায় পদার্পণ যাত্রা

এদিন বাদুড়িয়া-স্বরূপনগর শাসকদলের কিছু পদ হারানো নেতানেত্রীরা আপের কার্যকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন, জানা গিয়েছে তাদেরকে সদস্য হিসেবে যোগদানের কথা বলা হয়েছে, বিধানসভা কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত পদ বিতরণ নিয়ে কোনো আলোচনা নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আপ কর্মীরা। 


স্বরূপনগর বিধানসভা, রাজ্যের মধ্যে একটি বঞ্চিত  এলাকা বলে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষিত সমাজ দাবী করে আসছেন। রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, কর্মহীন মানুষজন, "সীমান্ত রক্ষীদের বিরূদ্ধেও নানান অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী স্বরূপনগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। টাকা দিয়ে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দালাল চক্রও গোপনে কাজ করছে বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও ব্লকে "। এদিকে শাসকদলের তিনবারের বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও এলাকায় নদী সংস্কার থেকে রাস্তাঘাট কোনোকিছুতেই নজরদারি নেই। ঠিকাদারের ফাঁকিবাজিতে রাস্তায় পর্যাপ্ত পিচ পড়েনা, স্বরূপনগরের একমাত্র প্রধান রাস্তা হাকিমপুর তেঁতুলিয়া রোড সংস্কারের ৬ মাসের মধ্যেই খারাপ হতে শুরু করে।গ্রামীণ সড়ক যোজনার রাস্তাগুলির কঙ্কালসার অবস্থা।

"দূর্নীতিতে মুখ খুললে ধমকি, শারীরিক নিগ্রহ ও গ্রেফতারির ঘটনাও অহরহ ঘটছে" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাম সমর্থকের দাবী।

সব মিলিয়ে শাসকদলের প্রতি জনমানসের এই ক্ষোভকে বিবোধী হিসেবে আপের সম্ভাবনা কে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় মানুষজন










একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ