দ্য ওয়েভ ব্যুরো: রিপোর্ট বলছে, গত কয়েক বছর ধরে ধর্মের নামে লিঞ্চ করার প্রবণতা ভয়ানক ভাবে বেড়েছে ভারতবর্ষে। আর এই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কারণে সবচেয়ে বেশি বার বেআব্রু হতে হয়েছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তরপ্রদেশকে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় আসেন যোগী। ক্ষমতায় এসে প্রকাশ্যেই একটি সম্প্রদায়ের উপর লাগাতার বিষেদগার প্রকাশ করতে থাকেন যোগী এবং তাঁর মন্ত্রীমন্ডল। মূলত সেই উস্কানিতেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেড়েছে ধর্মীয় বিদ্বেষ। কিছুদিন আগে নবনির্মান সেনার পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশে লোকসভা ভোটের প্রার্থী করা হয় এক মুসলিম যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা শম্ভুলাল রেগারকে। তারও আগে আখলাখ আহমেদকে পিটিয়ে মারা হয় ফ্রিজে গরুর মাংস রাখার সন্দেহে। শুধু মুসলিমই নয়, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলিতদের উপরও নানা লিঞ্চিং-এর খবর প্রায়শই হেডলাইনে আসে। সদ্যই ভারতবর্ষ তোলপাড় হয়ে যায় উত্তরপ্রদেশের হাথরসে এক দলিত মেয়েকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ঘটনার রেশ যাতে বেশি দূর না গড়ায় তাই সরকার তৎপরতার সাথে পুলিশি পাহারায় মেয়েটির দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করে দেয়।
এদিনের ঘটনাটি গুরুত্বের নিরিখে ওই পর্যায়ের ভয়াবহ না হলেও তাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা যায় না। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের এক মন্দিরে জল খেতে ঢোকে আসিফ নামের এক কিশোর। তাকে সেখান থেকে বার করে আনে কয়েকজন যুবক। প্রথমে তার এবং তার বাবার নাম জেনে নিয়ে তারপর জানতে চাওয়া হয়, "মন্দির মে কিয়া কার রাহা হ্যায়?" 'জল খেতে গিয়েছিলাম'----ছেলেটির কথা শেষ হওয়ার আগেই মাটিতে ফেলে বেধড়ক মার শুরু করা হয়। মারের আকস্মিকতায় খেই হারিয়ে ফেলে কিশোরটি কোন রকমে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে। তারপরও ছেলেটির যৌনাঙ্গ লক্ষ্য করে চলতে থাকে অনবরত লাথিবর্ষণ। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শিউরে ওঠছে নেটিজনেরা। ঘটনাটি জানিয়ে দ্য ওয়েভের তরফ থেকে শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক পবিত্র সরকার-এর প্রতিক্রিয়া চাওয়া হলে তিনি জানান, "উত্তরপ্রদেশ এখন সব রকমের রাষ্ট্রীয় অসহিষ্ণুতার চূড়ান্ত আশ্রয়। এই সব ঘটনা দেখে নিজেদের উপর ধিক্কার জাগে এই দেশের নাগরিক হয়ে বাঁচছি বলে।" গেরুয়া শিবিরের উত্থানে উত্তরপ্রদেশ তথা ভারতবর্ষের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা যে চূড়ান্ত আকার ধারণ করে চলেছে তা পবিত্রবাবুর কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম শৃঙ্গীনন্দন যাদব। বিহারের ভাগলপুরের অধিবাসী যাদবকে অ্যারেস্ট করে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার নামে ফৌজদারি ধারায় কেস দেওয়া হয়েছে।

0 মন্তব্যসমূহ