"DN 35, সীমান্ত এক্সপ্রেস" বাস চলাচলের রাস্তা আস্ত পুকুরে পরিণত হয়েছে!






আপনার মিডিয়া ব্যুরো :  
   হ্যাঁ এটাই স্বরূপনগর ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকার সেই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বাস-রাস্তা যা একটা অসংখ্য লম্বা পুকুরের সমষ্টিতে পরিণত হয়েছে। 
জনসংখ্যার বিচারে উত্তর ২৪ পরগণা ভারতবর্ষের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা, এবং সেই সাথে এই জেলারই স্বরূপনগর ব্লকেও জনসংখ্যা নেহাত কম নয়। কিন্তু চরম প্রশাসনিক অবহেলার শিকার এলাকার জনগণ। কেবল রাস্তাঘাটই নয়, হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুর বার্থ সার্টিফিকেট পেতেও চুড়ান্ত হয়রানি করে হাসপাতাল স্থানীয় শাঁড়াপুল পঞ্চায়েত।  সবখানে এখন জন্ম প্রমাণপত্র অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে দেওয়ার কথা, তাতে একটা দরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর মেলে যা WB দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু উক্ত পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি সেই ব্যবস্থা চালুও করতে চাননা, সরকার থেকে দুবছর আগে কম্পিউটার অ্যালোকেট করা হয়েছে, তা আজও প্যাকেটবন্দী।

  বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে এই ব্লকের তিনদিক ঘেরা। কেবল পশ্চিমের রাস্তা দিয়ে শহরের সাথে যোগাযোগ করা যায়। কোনো শিল্প নেই। কোনো নামী-দামী কনভেন্ট স্কুলও নেই। সরকারী স্কুলগুলিতে স্থানীয় কন্ট্রাক্টচ্যুয়াল কর্মীরা রাজত্ব চালায়। বালতি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কন্যাশ্রী বা ঐক্যশ্রী প্রকল্পের কাগজপত্র স্কুলে জমা নেওয়ার বদলে দূরে কোনো একজনের বাড়িতে জমা দিয়ে আসতে বলা হয়।  দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি একটি অনলাইন দোকান চালান, তার কাছ থেকে ফর্ম ফিলাপ না করলে তিনি তা নিতে চাননা এবং ছাত্রছাত্রীদের চুড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয় এমনটাই অভিযোগ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের। স্থানীয় প্রশাসনিক স্তরে জানানোও হয়েছে বিষয়টি। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থার আশ্বাস মিললেও কবে হবে জানা নেই। পরিস্থিতি না বদলালে লিখিত অভিযোগ করা হবে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদেও। এমনকি ঐ ব্যক্তির পদমর্যাদা ও স্কুলের কাজ কারও বাড়িতে বসে হতে পারে কিনা অথবা হলে আইন কি বলে জানতে RTI করা হবে সেন্ট্রাল ও স্টেট লেভেল গ্রিভেন্সে এমনটাই জানা যাচ্ছে স্থানীয় সূত্রে।

 এছাড়াও এলাকার রাস্তাঘাট নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। যেখানে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তৃণমূল স্তরে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে কড়া ব্যবস্থা নেবেন জানালেও স্থানীয় পঞ্চায়েত কিন্তু ব্লক স্তরে উন্নয়ন ব্যবস্থা সেই অতলেই।
 বালতি নিত্যানন্দকাটি বাসস্ট্যান্ড থেকে যে ডি এন ৩৫ বা সীমান্ত এক্সপ্রেস বাসটি জেলা শহর বারাসাতের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রুট। সেই রুটের শুরু থেকে একেবারে বিথারী বল্ফিল্ড অবধি অবস্থাটা সব থেকে খারাপ।

"দীর্ঘদিন ধরে খারাপ থাকে এই রাস্তা। তারপর হঠাৎ একদিন জোড়া তালি দেওয়া হয় এলাকার মানুষের চোখে ভাল সাজতে। তারপর আবার দুমাস পরে তাও খারাপ হয়ে যায়। এভাবেই চলে" এমনটাই জানালেন একজন পথচারী। "এলাকার তিনবারের বিধায়ক সব জানেন অথচ কোনো পদক্ষেপ নেননা" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক মহাশয় জানালেন, প্রতিদিন এই দূর্গম রাস্তা অতিক্রম করে তাকে স্কুলে যেতে হত লকডাউনের আগে, বছর অতিক্রান্ত হয়, কিন্তু পরিস্থিতি বদলায় না। তার উপর এই বর্ষায় রাস্তা একেবারে পুকুরের আকার ধারণ করেছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ